আমার স্ত্রী মুনিজা বশীর

Picture of Kayesh Chowdhury

Kayesh Chowdhury

Executive Vice President & Regional Head, Corporate Banking, BRAC Bank Limited

আমার স্ত্রী মুনিজা বশীর সম্পর্কে  একটা অজানা তথ্য দিই। উনি হিন্দী বলতে ও লিখতে পারেন। কোনো এককালে মুম্বাই হিরো সন্জয় দত্তের প্রেমে উনি হাবুডুবু খেয়েছিলেন। আর সন্জয় দত্তকে চিঠি লিখার জন্য উনি হিন্দী শিখেছিলেন। যদিও এই গুনের সরাসরি বেনিফিসিয়ারী কিন্তু আমি। তাজমহল ও কুতুবমিনার দেখতে গিয়ে খরচটা কমই হয়েছিলো 😀 😀 ।  মূল প্রসঙ্গ এটা নয়। হিন্দী জানলেও চুয়াত্তর সাল থেকে চট্টগ্রামে থাকা মুনিজা বশীরের কাছে চাঁটগাইয়া এখনও চরম বিস্ময় 😀 😀 ।  যেমন: ‘ফল’ মানে শষা, আবার ‘ফ-অল’ মানে পাগল। এই জাতীয় শব্দসম্ভার নিয়ে উনার বিস্ময়ের অন্ত নাই। আরেকটি শব্দ হলো ‘ছুন্ কে ছুন্’।  উনি এর সাথে কিভাবে যেনো হিন্দীর মিল খুঁজে পান।
যাহোক, মূল প্রসঙ্গে আসি। হজ্ব মওসুম এলে ১৯৯৭-৯৮ দিককার একটা ঘটনা মনে পড়ে যায়। আমি তখন ঢাকা ব্যাংকে। লান্চ আওয়ারের পর চোখে ডার্ক  সানগ্লাস, হাতে সোনালী রং-এর ঘড়ি, সাদা সার্ট-প্যান্ট, ভাঙ্গাচোরা চেহারা, মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি এলো। কাস্টমার সার্ভিস কাউন্টারে বসা মুনিজা বশীরকে চাঁটগাইয়া মেশানো বাংলায় বললেন, “আমার তুন্ দুই লাক টাখা আছে, ডিপুজিট গইত্তো চাই”। করিতকর্মা মুনিজা তাকে সাথে সাথে ক্যালকুলেটর টিপে বুঝিয়ে দিলেন এফডিআর করলেই তিনি লাভবান হবে।  এফডিআর করা হলো। ওই লোকের হাতে এফডিআর স্লিপ দেয়া হলো। স্লিপটি হাতে নিয়ে লোকটি বললেন “যদি এইটা হাযী যায়”। মুনিজা বশীর বললেন,” হজ্বে যাওয়ার আগে স্লিপটা নিরাপদ কোনো স্হানে রেখে যাবেন”।  লোকটি আবার বললেন, “যদি হাযী যায়”। মুনিজা এবার বললেন, “হজ্বে যাওয়ার আগে এটা আপনার পরিবারের কাছে রেখে যাবেন বা ঘরের আলমারীতে বেঁধে যাবেন”।
লোকটি এরপর সানগ্লাস খুলে  মুনিজাকে বিনয়ের সাথে বললেন, “না-অাআ, যদি এইটা হাযী যায়”। এবার মুনিজা কিছুটা অপ্রস্তুত, বললেন “হজ্বে গেলে যাবেন। তাতে কি! এটা নিরাপদে থাকলেই হলো”। একটু দূরে বসা আমি কথোপকথন শুনছিলাম আর বাকীটা নাইবা বললাম। :p 😀 :p
পুনশ্চ: হুমায়রা আপা ওই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সামাল দিয়েছিলেন।