বাংলাদেশের সব জেলার লোক এখন শুটকি খায়। শুটকি মুখরোচক খাবারগুলোর মধ্যে একটি। শুটকির কথা মনে পড়লেই অনেকের জিভে জল এসে যায়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে শুটকি রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও, যদিও পরিমানে কম। কারণ, দেশে শুটকির চাহিদা ৫৪ হাজার ৭৫০ টন। অথচ, দেশে উৎপাদন হয় ২২ হাজার টন। বাকি ৩৩ হাজার বিদেশ থেকে সরবরাহ করা হয়।
চট্টগ্রামে অতি পরিচিত নৌকাই ‘সাম্পান’।চট্টগ্রামবাসীদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য অঙ্গনে সাম্পানের রয়েছে এক বিরাট ভূমিকা। সাম্পান তো জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সূচনা। ১৯০০ শতকে চট্টগ্রামে এক হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ তৈরি হতো। প্রতিবছর চট্টগ্রাম থেকে ২৫ থেকে ৩০টি জাহাজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। বাংলাদেশ এখন গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড আধুনিক জাহাজ নির্মাণ করে।
চট্টগ্রামের বহুল প্রচলিত ও ঐতিহ্যবাহী একটি ভোজের নাম মেজবান যা এখন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রিয় একটি অনুষ্ঠান। শিল্পপতি, ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে বছরের পর বছর ধরে আয়োজন করে যাচ্ছেন জনপ্রিয় এই মেজবানের। বাংলাদেশের ঢাকা, সিলেট, খুলনাসহ দেশের বাইরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ও ইউরোপ, আমেরিকায় মেজবান পরিচিতি লাভ করেছে।
আমরা চাটগাঁইয়ারা চায়ের সাথে বেলা বিস্কুট চুবিয়ে খেতে পছন্দ করি। বাসায় বেলা বিস্কুট দিয়ে চা খায়নি, এমন চাটগাঁইয়া বোধহয় খুব কমই আছে। চট্টগ্রামের হিলটপ বাংলো থেকে শুরু করে রাস্তার পাশে টং দোকানে সর্বত্রই বেলা বিস্কুট আর চা খাওয়া হয়। জনশ্রুতি আছে আঠারশো শতকের মধ্যভাগে শহরের চন্দনপুরা এলাকার বেলায়েত আলী বিস্কুটওয়ালা নামে এক ব্যক্তি সর্বপ্রথম এই বিস্কুট বানাতেন। চন্দনপুরার গনি বেকারি, চকবাজারের চিটাগাং বেকারি, পাঁচলাইশের প্রবাসি বেকারি, মুরাদপুরের হাসিনা বেকারি বেলা বিস্কুট তৈরীর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের হালের ওয়েল ফুড, ফ্লেভার্স, বনফুল ও অন্যান্য বেকারিগুলিও নিজস্ব রেসেপীতে বেলা বিস্কুট আকর্ষণীয় মোড়কে বিপনন করছে, বিদেশেও রপ্তানি করছে। এরমঝে, ফ্লেভার্সের ‘চকলেট বেলা’ আমার খুবই প্রিয়। আমাদের চট্টগ্রামের অন্যান্য ঐতিহ্যের সাথে বেলা বিস্কুটের এই ঐতিহ্যও প্রচলিত থাকুক সময়ের পথ ধরে যুগে যুগে আগামী দিনগুলিতে।
আমার চট্টগ্রাম, অদম্য চট্টগ্রাম। আমি গর্বিত।
