“মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন” – বাংলাদেশ সংবিধান।
কিন্তু, বাস্তবতা হলো দেশে ধনী-গরীবের বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধনীরা হচ্ছেন আরও ধনী। আর গরীবরা হচ্ছেন আরও গরীব। গরীব থেকে উত্তোরণের গতি কমে গেছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হতে চললেও বাস্তবতা হচ্ছে দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। দুর্নীতিপ্রবণ দেশ দারিদ্র্য বিমোচনে সফলতা অর্জন করতে পারে না। এক্ষেত্রে সুশাসনের বিষয়টি জড়িত। গত দশ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের এক চতুর্থাংশের বেশি।
আমি, আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন – এই আমাদের জীবনের গন্ডি। দেশ নিয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নাই, আমাদের দেশপ্রেম নাই। আমরা সাহসী জাতি কিন্তু দেশপ্রেমের বড়ই অভাব। দেশপ্রেম জাগ্রত না হলে দেশ এগুবে না, অন্যায় অত্যাচার, গুম, খুন, ইয়াবা চলতেই থাকবে। আমি মনে করি, আরো একটি মুক্তিযুদ্ধ হবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা, শ্রেণী বৈষম্য নিরসন, সম্পদের সুষম বন্টন, অর্থনৈতিক মুক্তি, উন্নয়ন ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য এই মুক্তিযুদ্ধ হবে। এদেশের স্বাধীনচেতা সাহসী মানুষ যে ঐক্যবদ্ধ হবে ও আরো একটি মুক্তিযুদ্ধ যে হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নাই। অপেক্ষায় রইলাম। সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
